আপডেট: জুলাই ২৯, ২০২৬
কিশোর-কিশোরীদের ডিজিটাল আসক্তি কমাতে মাঠের খেলাধুলা বা ক্রীড়া একটি সরাসরি প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে……………সিনিয়র শিক্ষক মোঃ ছানোয়ার হোসেন
স্মার্টফোন, সোশ্যাল মিডিয়া এবং অনলাইন গেমসের স্ক্রিন টাইম কমিয়ে তরুণ প্রজন্মকে বাস্তব জীবনে ফিরিয়ে আনতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।
ডিজিটাল আসক্তি কমাতে খেলাধুলার প্রধান ভূমিকা
মো: ছানোয়ার হোসেন সিনিয়র শিক্ষক, শহিদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস স্কুল ও কলেজ, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট ঢাকা
বিকল্প আনন্দ বা ডোপামিন সোর্স: ভিডিও গেম বা সোশ্যাল মিডিয়া কিশোর-কিশোরীদের মস্তিষ্কে যেভাবে তাৎক্ষণিক আনন্দের (ডোপামিন) অনুভূতি তৈরি করে, মাঠে গোল দেওয়া বা ম্যাচ জেতার আনন্দ তার চেয়েও বেশি শক্তিশালী এবং স্বাস্থ্যকর ডোপামিন নিঃসরণ করে।
শারীরিক ক্লান্তি ও স্বাভাবিক ঘুম: মাঠে কঠোর পরিশ্রম ও দৌড়াদৌড়ির ফলে শরীর ক্লান্ত হয়। এটি রাতে গভীর ও স্বাভাবিক ঘুমে সাহায্য করে, ফলে গভীর রাত জেগে মোবাইল স্ক্রিন দেখার অভ্যাস দূর হয়।
বাস্তব সামাজিক যোগাযোগ (Face-to-Face Interaction): ভার্চুয়াল জগতের ফেক বা কৃত্রিম বন্ধুত্ব ছেড়ে মাঠে সহখেলোয়াড়দের সাথে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীদের বাস্তব সামাজিক দক্ষতা ও পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নত হয়।
একাকীত্ব ও বিষণ্ণতা দূরীকরণ: ডিজিটাল আসক্তির অন্যতম প্রধান কারণ একাকীত্ব। দলগত খেলাধুলা (যেমন—ফুটবল, ক্রিকেট বা বাস্কেটবল) কিশোর-কিশোরীদের একাকীত্ব দূর করে এবং তাদের একটি ইতিবাচক দলের অংশ হিসেবে অনুভব করায়।
মনোযোগ ও মানসিক সুস্থতা বৃদ্ধি: স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে মনোযোগের অভাব (ADHD এর মতো সমস্যা) দেখা দেয়। খেলাধুলা কৌশল নির্ধারণ এবং তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়িয়ে মনোযোগ ও ফোকাস পুনরুদ্ধার করে।
ডিজিটাল আসক্তি মুক্তিতে পরিবার ও সমাজের করণীয়
ডিজিটাল ফ্রি টাইম ঘোষণা: প্রতিদিন বিকেলে নির্দিষ্ট ১-২ ঘণ্টা সময়কে সম্পূর্ণ ডিভাইস-মুক্ত রেখে মাঠে যাওয়ার নিয়ম করতে হবে।
পারিবারিক অংশগ্রহণ: বাবা-মা বা পরিবারের বড় সদস্যরা ছুটির দিনে কিশোর-কিশোরীদের সাথে ইনডোর বা আউটডোর খেলায় অংশ নিতে পারেন।
সহজ ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান: মোবাইল রিচার্জের বদলে সন্তানদের সাইকেল, ব্যাডমিন্টন র্যাকেট বা ফুটবল উপহার দিয়ে মাঠের দিকে আকৃষ্ট করা জরুরি
লেখক : সিনিয়র শিক্ষক , শহীদ বীর উত্তম লে.আনোয়ার গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, ঢাকা।