আপডেট: মে ৬, ২০২৬
নেক্সটনিউজ প্রতিবেদক,টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে দেদারছে চলছে অবৈধ ব্যবসার মহোৎসব। রাজনৈতিক বেআইনি প্রভাবের কারণে অনেক সময় প্রশাসনকে অসহায়াত্ব প্রকাশ করতে দেখা যায়।ফলে কিছু জনবিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক লুটেরা স্থানীয় এমপি ও বিএনপিকে অপব্যবহার করে এই বিধ্বংসী অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
উপজেলার পৌলী, মহেলা ও চর ভাবলা এলাকার লৌহজং ও পুংলি নদীতে গভীর রাতে স্থানীয় এমপি, বিএনপি ও প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে চিহ্নিত বালুখেকোরা নির্ভিগ্নে নদীর বালু বিক্রির মহোৎসবে মেতেছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ।
গভীর রাতে ভেকু দিয়ে নদীর বালিমাটি উত্তোলন করে ট্রাক, ড্রাম ট্রাকে করে অবৈধ মাটি বিক্রি করে প্রতিরাতে লাখলাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন নির্ভিগ্নে । ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের পুংলি নামক স্থানে পুংলি নদীর উপর স্থাপিত রেলসেতুর পূর্বপাশে মহেলা বালুঘাটে নদী হতে অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় আশংকা করা হচ্ছে । ফলে ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। হুমকির মূখে পড়েছে রেল সেতু ।অপরদিকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে স্থানীয় জনবসতির সমূহ ক্ষতির শংকা রয়েছে।এছাড়াও রেলওয়ের নির্মিত সেতুরক্ষা বাঁধের সড়কটি বহুলাংশে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ভারী ট্রাক ,ড্রামট্রাকে বালু পরিবহনের কারনে।
পুংলি রেলসেতুর পূর্বাংশে মহেলা বালুঘাট পরিচালনার মূল দায়িত্বে রয়েছেন বালুখেকো হিসাবে সমধিক পরিচিত মহেলার তোফাজ্জল হোসেন। তারসাথে যুক্ত আছেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলা-বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক পরিচয়দানকারী জনৈক ব্যক্তি এবং গালা ইউনিয়ন বিএনপি ২নং ওয়ার্ডের সভাপতি ।তারা সরাসরি মহেলা বালুঘাটে উপস্থিত থেকে প্রচার করছেন যে,টাঙ্গাইল ৪ কালিহাতী আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান মতিন সাহেবের অনুমতিক্রমেই বালুঘাট পরিচালনা করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী বালুখেকো বাহার উদ্দিন ও এমপি মতিন সাহেবের নিজ গ্রাম রাজাবাড়ীর উজ্জ্বল সরকারের নেতৃত্বে পৌলী, তোফাজ্জল হোসেনের নেতৃত্বে মহেলা,অছিম উদ্দিনের নেতৃত্বে চর ভাবলায় রাতের আঁধারে নদী থেকে অবিরত বালু উত্তোলন করছেন । বিক্রিকরে ভারী ট্রাক , ড্রাম ট্রাকে পরিবহনের কারনে সরকারি রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জনচলাচলে দূর্ভোগ তৈরি হচ্ছে।এছাড়াও বালুখেকো চক্রের সীমাহীন দৌরাত্ম্যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নদী ও নদী পাড়ের পানুষ, পুংলি রেলসেতু ,জনবসতি ও আশপাশের ফসলি জমি ।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৌলী, মহেলা ও চর ভাবলার লৌহজং ও পুংলি নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে স্থানীয় একাধিক অসাধু চক্র প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধভাবে নদীর বালুমাটির ব্যবসা পরিচালনা করেছেন ।
সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতেই নদীপাড়ের নির্জন এলাকায় ভিড় করে সারি সারি ট্রাক,ড্রামট্রাক। শক্তিশালী ভেকু দিয়ে অবিরাম কেটে নেওয়া হচ্ছে নদী থেকে পরে সেই মাটি ট্রাকযোগে পাঠানো হচ্ছে জেলার বিভিন্ন জায়গায়।
স্থানীয় বাসিন্দা রহিম মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, আমরা ভয়ে মুখ খুলতে পারি না,তারা প্রভাবশালী লোক এবং ক্ষমতাসীন দলের কর্তা ব্যক্তিদের সাথে দহরম মহরম। প্রতিবাদ করতে গেলে উল্টো আমাদেরকেই মামলা-হামলার ভয় দেখানো হয় বলেও তিনি দুঃখ করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনৈক শিক্ষক বলেন,এভাবে নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালিমাটি উত্তোলন অব্যহত থাকলে আগামী বর্ষায় আমাদের ভিটেমাটি আর অবশিষ্ট থাকবে না,নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
পরিবেশবিদদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে ভেকু দিয়ে মাটি উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে একদিকে যেমন নদীর ভাঙন ত্বরান্বিত হচ্ছে, অন্যদিকে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানান, অবৈধভাবে বালু তোলার খবর পেয়ে কয়েকবার বাধা দেওয়া হলেও বালুখেকো চক্রটি দমে না, বরং রাতের আঁধারে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসন অবৈধ বালু উত্তোলন ও বিক্রি বন্ধে নিয়মিত অভিযান এবং ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ট্রাক,বালিমাটি জব্দ ও জরিমানা কার্যক্রম অব্যহত রেখেছে।তবে রাজনৈতিক প্রভাব ও হস্তক্ষেপের কারনে কখনো কখনো আমাদের বিব্রতও হতে হয়।
এবিষয়ে স্থানীয় এমপি লুৎফর রহমান মতিন সাহেবের মতামত জানার জন্য সংবাদ কর্মীরা টেলিফোনে তার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিপ করেননি।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (রাজস্ব) বক্তব্য নেয়ার জন্য বার বার ফোন করলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি । পরবর্তী সময়ে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা অবিলম্বে মহেলা, পৌলী ও চরভাবলার অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে জেলা প্রশাসন,পানি উন্নয়ন বোর্ড,রেলওয়ের উর্ধতন কর্ত়পক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে অবৈধ বালু মাটি উত্তোলন ও বিক্রির সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছেন।