আপডেট: এপ্রিল ১০, ২০২৬
নেক্সটনিউজ প্রতিবেদক : সারাদেশে ইলিশ মাছ বিক্রির নামে চলছে অনলাইনে অভিনব প্রতারণা। বিশেষ করে ইলিশের জন্য বিখ্যাত চাঁদপুর জেলায় ভিন্ন ভিন্ন নামে পেজ খুলে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করে বিকাশ,নগদসহ বিভিন্ন মাধ্যমে টাকা আদায় করে আত্বসাত করছে একটি চক্র। এতে করে সারাদেশের ইলিশপ্রেমী মানুষ অনলাইনে টাকা পাঠিয়ে মাছও পাচ্ছে না আবার টাকাও ফেরত পাচ্ছন না । বিকাশে টাকা পাঠানোর পর তারা টালবাহানা করে।টাকা ব্যাক চাইলে ব্যাক মেমো বাবদ আরো ১৫০০ টাকা দাবী করে । উক্ত টাকা পাঠানোর পর তারা ফোন রিসিভ করেন না। এভাবে সারাদেশের হাজারো মানুষ প্রতিদিন প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। এমনকি উক্ত চক্রের লোকজন ভুক্তভোগীদের হুমকি পর্যন্ত দিচ্ছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান “পদ্মার পাইকারি ইলিশ চাঁদপুর” নামে পেজ খুলে একটি চক্র দীর্ঘদিন প্রতারণা করে আসছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাঁদপুর পৌরসভার পুরান বাজার মাছঘাট বড় স্টেশন, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর ঠিকানায় চাঁদপুর ইলিশ বাজার নামে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করেন মোঃ হাফিজুল গনি নামের জনৈক ব্যক্তি।তার বাবার নাম মোঃ ওবায়দুল বিশ্বাস। লাইসেন্স নম্বর ০০০৫৮৯ । ক্রমিক নম্বর ০০৪৭২৮। ইস্যুর তারিখ পহেলা ফেব্রুয়ারি ২০২২। উক্ত হাফিজুল গনির মোবাইল নম্বর ০১৮৭৯৫৭২৬৩৮। জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ৩৫৫৮৪৩৯৬৩৪।

উক্ত হাফিজুল গনি কুটকৌশলে বিজ্ঞাপনে পাঞ্জাবী পরিহিত, দাঁড়িওয়ালা ছবি সংযুক্ত করে মানুষের আস্থা অর্জন করে বিভিন্ন প্যাকেজের নামে সারাদেশ থেকে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে চলেছেন। শিল্পী সাহাবুদ্দিন সহ অসংখ্য প্রভাবশালী তার পার্টনার বলে তিনি ভুক্তভোগীদের ভয় দেখান।

তাঁর বিরুদ্ধে সারাদেশে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।
গত ৫ এপ্রিল টাঙ্গাইলের জনৈক ব্যক্তি এই পেজের অনুকূলে বিকাশ ০১৭১৬৬৪৬১২৮ থেকে 01873080509 তে ৫০০ টাকা অগ্রিম পাঠিয়ে অর্ডার কনফার্ম করেন। সে মোতাবেক উক্ত পেজ থেকে একটি মানি রিসিট প্রদান করা হয়। অর্ডার আইডি ৪৯৮।রিসিটে দোকান নম্বর উল্লেখ করা হয় ১২/৯ পুরান বাজার, রেলস্টেশন , মাছঘাট, চাঁদপুর , মোবাইল ০১৮৮০৫৭৪০২১। ৪.৮ কেজি ওজনের ২ পিস ইলিশের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৩৮০০ টাকা।৫০০ টাকা অগ্রিম পেমেন্ট ধরে বকেয়া দেখানো হয় ৩২৯৯ টাকা।তার সাথে কথা হয় ইলিশ মাছ হোম ডেলিভারি দেয়ার সময় বকেয়া ৩২৯৯ টাকা পরিশোধ করতে হবে।কিন্তু তাঁকে ৬ এপ্রিল ডেলিভারি ম্যান পরিচয়ে ফোন করে জানানো হয় বাকী ৩২০০ টাকা পরিশোধ না করলে কোড দেয়া হবে না। আর কোড না দিলে মাছ হোম ডেলিভারি সম্ভব নয়। বাধ্য হয়ে উক্ত ভুক্তভোগী ০১৭১৬৬৪৬১১৮ বিকাশ নম্বর থেকে ০১৮৭৩০৮০৫০৯ নম্বরে ৩২৯৯ টাকা পাঠান। পরবর্তীতে পেজের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ফোন দিলে জানানো হয় বিকাশ খরচ না দিলে ডেলিভারি সম্ভব নয়। পরবর্তীতে বিকাশ খরচ বাবদ ৬০ টাকা পাঠান তিনি। পরে আবার ফোন করলে জানানো হয় সিস্টেম ভূল হয়েছে।আবারো ৩৩৫৯ টাকা সেন্ড মানি করতে বলা হয়।

ভুক্তভোগীর পুরো টাকা পরিশোধ করার পরও আবার তার কাছে অতিরিক্ত ৩৩৫৯ টাকা দাবী করা হয়। ভুক্তভোগী টাকা ফেরত চাইলে ব্যাক মেমো বাবদ অতিরিক্ত ১৫০০ টাকা দাবী করছেন তারা। বেশি বাড়াবাড়ি না করার জন্য হূমকী দেয়া হচ্ছে পেজটির পক্ষ থেকে।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী তোফাজ্জল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, এই পেজের কথা কাজে কোন মিল নেই।পুরোটাই প্রতারণা। ইলিশও দিচ্ছে না আবার টাকাও ব্যাক দিচ্ছে না।উল্টো হুমকি দেয়া হচ্ছে।এই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি।
“পদ্মার পাইকারি ইলিশ চাঁদপুর পেজের ” স্বত্বাধিকারী হাফিজুল গনির মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার সকল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, ” এদের মধ্যে অনেকেই প্রতারক ।এরা ভূয়া ঠিকানা ব্যবহার করে প্রতারণা করে আসছে।এনআইডি থাকলে মামলা করতে বলেন।আমরা প্রতারকদের গ্রেফতার করবো ।”