২১শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার

 

কাদেরিয়া বাহিনীর জাদুঘরের স্থান পরিদর্শনে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী

আপডেট: মার্চ ৩১, ২০২৪

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

 

মনিরুজ্জামান মতিন, টাঙ্গাইল : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ সুখে থাকুক, ভালো থাকুক এটা বিএনপি চায় না। শনিবার (৩০ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইলের আশেকপুর বাইপাস এলাকায় কাদেরিয়া বাহিনীর জাদুঘরের স্থান পরিদর্শনে এসে তিনি এ মন্তব্য করেন।

‘পাকিস্তান সময়ে ভালো ছিলাম’ বিএনপির মহাসচিব মীর্জা ফখরুলের এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন ,   কোন বিষয়ে কোন সুযোগে ভালো ছিলেন? যেহেতু পেঁয়াজের দাম কমেছে, জিনিস পত্রের দাম কমেছে মানুষ একটু স্বস্তিতে আছে এখন তারা ভারতের পণ্য বর্জনের ডাক দিয়েছে। দেশের মানুষ ভালো থাকুক তারা তা চায় না।”

বিএনপি’র সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর যে স্বপ্ন ছিল এ দেশে শোষণ মুক্ত, দারিদ্র্য মুক্ত সমাজ তৈরি করা। সেটা যেন না হয়, সেজন্য এখনও তারা পাকিস্তানকেই হৃদয়ে ধারণ করে নানা সমালোচনা করেন। এসময় তিনি মুক্তিযুদ্ধের সকল স্মৃতিবিজড়িত স্থান সংরক্ষণের উপর জোর দেন।

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও কালিহাতী-৪ আসনের এমপি লতিফ সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চলনা করেন- কাদেরিয়া বাহিনীর প্রধান আব্দুল কাদের সিদ্দিকী। এসময় বক্তব্য রাখেন- টাঙ্গাইল সদর, টাঙ্গাইল-২,  টাঙ্গাইল-৭ আসনের সংসদসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, জেলা প্রাশাসকসহ বিভিন্ন নেতৃবর্গ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধুর হাতে কাদেরিয়া বাহিনীর অস্ত্র সমর্পণের স্মৃতি সংরক্ষণ ও জাদুঘরটি মিউজিয়ামে রুপান্তরের দাবি জানান।

অপরদিকে, দুপুরে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বানিয়াফৈর এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনে ভূমি অধিগ্রহণ পরিদর্শণে এসে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয়দের সাথে মতবিনিময় সভা করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক.ম মোজ্জামেল হক। মত বিনিময় সভাটি এক পর্যায়ে সমাবেশে রূপ নেয়। সমাবেশে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী নৌকা মার্কার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থীর এমপিকে অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য দেওয়ায় কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগ দলীয় প্যাডে স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। সেইসাথে নৌকা নিয়ে নির্বাচিত কালিহাতীর ইউপি চেয়ারম্যানরা একমত পোষণ করেছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন- টাংগাইল-৪ কালিহাতী আসনের স্বতন্ত্র এমপি আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহাদাৎ হুসাইনের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন- কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজহারুল ইসলাম তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনোয়ার হোসেন মোল্লা, সহকারি পুলিশ কমিশনার (কালিহাতী সার্কেল) মোঃ শরিফুল হক, কালিহাতী অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ কামরুল ফারুক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং দশকিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ মালেক ভূঁইয়া, উপজেলা আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মিজানুর রহমান মজনু, সহদেবপুর ইউনিয়ন মুক্তিযুদ্ধ কমান্ডার শামসুর রহমান, সহদেবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোখলেছুর রহমান খান ফরিদ, সহদেবপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কাদের মল্লিকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহাদাৎ হুসাইন জানান, মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘর ও স্মৃতিস্তম্ভ তৈরিতে প্রকল্পের টেন্ডার  সম্পন্ন করেছি। এখন শুধু নির্মাণ কাজ শুরু।

উল্লেখ্য, কালিহাতী উপজেলার সহদেবপুর ইউনিয়নের বানিয়াফৈর চৌরাস্তা মোড়ে ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর ভারতীয় ৩৬ সেনা সদস্য অবতরণ করেন। মুক্তিযুদ্ধের সেই প্রথম সেনা সদস্যদের স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে বানিয়াফৈরে নির্মিত হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘর। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী অবসরপ্রাপ্ত ৩০ জন বীরসেনা সদস্য এবং ৬ জন চাকরিরত সেনা সদস্য মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জড়ানো এ স্থানে এসেছিলেন। ওই সময় সরকারি ভাবে সিদ্ধান্ত হয় মুক্তিযুদ্ধের এলাকাটি স্মরণীয় করে রাখা প্রয়োজন। এ নিয়ে গত ২০ মার্চ মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পেয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করে উপজেলা প্রশাসন। গত ২৬ মার্চ স্থানীয় এমপি আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বানিয়াফৈরের জায়গাটি পরিদর্শন করেন।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
Website Design and Developed By Engineer BD Network