২৪শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

 

মাঠে বন্যার পানি জমে থাকায় নওগাঁয় আমন চাষ ব্যাহত

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২০

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

আমিনুল জুয়েল, নওগাঁ থেকে: গেল দুই মাসের ভারিবর্ষণ ও সম্প্রতি হয়ে যাওয়া তিনবারের বন্যায় নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় আমন ধান চাষ ব্যাপক ক্ষতির সম্মোখীন হয়ে পরেছে। উপজেলার বেশির ভাগ ফসলি মাঠ এখনও বন্যার পানির দখলে। এসব এলাকা থেকে বন্যার পানি সরে না যাওয়ায় কোন কোন মাঠে এখনও এক বুক পানি অবস্থান করছে।

এদিকে, বন্যার পানি দীর্ঘদিন আটকে থাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এই উপজেলার প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমি অনাবাদী হয়ে পড়েছে। এসব জমিতে চলতি মৌসুমের আমন ধান চাষও অনিশ্চিত বলে জানিয়েছেন এই উপজেলার কৃষকরা। অন্যদিকে, উপজেলার প্রতিটি এলাকার কৃষকদের আমন ধানের বীজতলা পানির নিচে ডুবে গেছে। আপদকালীন বীজ বপণ না করায় কৃষকরা এখন আমন ধানের চারা সংকটে ভুগছেন।

জানা গেছে, উপজেলার শাহাগোলা, কালিকাপুর, কাশিমপুর, ভোঁপাড়া, জামগ্রাম, মনিয়ারী, নওদুলী, পালশা, চৌথলসহ পূর্ব এলাকার মাঠগুলোতে প্রচুর পরিমাণে আমন ধান উৎপাদন করা হয়। এসব এলাকার কৃষকরা ইরি-বোরো ধান কাটার পরে আমনের বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। মাঠে মাঠে আবাদ করা হয় চিনি আতপ, জিরাসাইল, পাইজামসহ বিভিন্ন জাতের আমন ধান। কিন্তু এবছরে ইরি-বোরো ধান কাটা শেষ হতে না হতেই বর্ষার ভারি বর্ষণ এবং নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে প্রতিটি মাঠে বন্যার সৃষ্টি হয়। এজন্য আমন ধানের চাষ নিয়ে কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন।

’এলাকার বেশিরভাগ কৃষকরা ইরির ধান ঘড়ে তোলার সাথে সাথেই বীজতলা প্রস্তুত করে বীজ বপণ করে।  কিন্তু ভারী বর্ষণ আর বন্যায় আমন ধানের বীজতলা ডুবে গেছে। এদিকে, মাঠ থেকেও পানি নামেনি।  ফলে এই মৌসুমে আমন ধানের আবাদ করা সম্ভব হবে না,’ কথাগুলি বলছিলেন উচল কাশিমপুর গ্রামের কৃষক বেলাল হোসেন।

চৌথল গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেন বলেন, ’গত কয়েক বছর এই এলাকায় প্রচুর পরিমাণে চিনি আতপ ধানের চাষ হয়।  এই ধানের ফলনও বেশি।  কিন্তু এই মৌসুমে বীজতলা বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। এমনকি, নতুন করেও আর বীজতলা তৈরি করতে পারিনি। তাই এবছরের আমন চাষ নিয়ে বিপাকে পরেছি। ’

এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মু. কাউছার হোসেন জানান, গত দুই মাসের ভারি বর্ষণ ও বন্যায় এই এলাকার অনেক কৃষকরাই আমন ধান চাষ করতে বিপাকে পরেছেন। এছাড়াও, বীজতলা ডুবে গিয়ে নতুন করে তাঁদের মধ্যে আমন ধানের বীজ সংকট দেখা দিচ্ছে।  তবে আত্রাই নদীর পানি কমলে মাঠের পানিও কমে যাবে। মাঠের পানি নেমে গেলে কৃষকরা পুরোদমে আমন চাষ করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন এই কৃষি কর্মকর্তা।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
Website Design and Developed By Engineer BD Network