৩রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

 

নওগাঁয় বাড়ির উঠানে ধানের বীজতলা!

আপডেট: আগস্ট ১৮, ২০২০

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

আমিনুল জুয়েল, নওগাঁ থেকে : গত জুলাই মাসে একটানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে নওগাঁর অনেক এলাকায় বন্যা দেখা দেয়।  এই জেলার অনেক বন্যা কবলিত এলাকা থেকে এখনও পানি পুরোপুরি নেমে যায়নি। ফলে এসব এলাকার কৃষকরা আমন ধান রোপনে বিপাকে পড়েছেন।

এদিকে, জেলার রাণীনগর উপজেলার নান্দাইবাড়ি-কৃষ্ণপুর বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে চাষ যোগ্য রোপা-আমন ধানের জমি পানিতে তলিয়ে যায়।  আবার নতুন করে এর সাথে যোগ হয়েছে রক্তদহের বিলের পানি, কুজাইল স্লুইচ গেটের পানি, আত্রাই উপজেলার মির্জাপুর ও কাশিয়া বাড়ি স্লুইচ গেটের পানি। ফলে রাণীনগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে গড়া বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, এবছর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে প্রায় ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা-আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য প্রায় ৯৫০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়। কিন্তু গত মাসে অতি বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে প্রায় ৬শ’ হেক্টর বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়।  এজন্য, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় ২শ’ হেক্টর জমিতে নতুন করে বীজ বপণ করা হয়েছে।

বন্যা পরবর্তী রোপা-আমন ধান চাষের লক্ষ্যে চাষীরা যাতে আপদকালীন চারা সংকটে না পড়ে সেজন্য উঁচু জমি, বাড়ির উঠান, আশে-পাশের বাগানবাড়িতে বীজতলা তৈরির পরামর্শ ও সহযোগীতা করে স্থানীয় কৃষি অফিস। বন্যার পানি যেখানে প্রবেশ করতে পারবেনা, এমন স্থানে আরও প্রায় ২শ’ হেক্টর জমিতে নতুন করে বীজ বপণ করা হয়েছে।

এই এলাকায় বন্যার পানি ধীর গতিতে নামার কারণে রোপা-আমন ধান লাগানোর জন্য চাষীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন এখন। জমিতে পুরো দমে চাষসহ প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ করছেন তাঁরা। এরমধ্যে বন্যা কবলিত কয়েকটি ইউনিয়নে পুরোদমে আমন ধান লাগানো শুরু হয়েছে।

 

বন্যার পর চাষীরা রোপা-আমন ধান লাগানোর জন্য চারা সংকটে না পড়ে সেজন্য উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতায় কৃষকরা নতুন করে উচুঁ জমিতে বীজতলা তৈরি করে।

 

উপজেলার সিম্বা গ্রামের কৃষক সেফাদ ও নজরুল ইসলাম জানান, ’এবছর বন্যার পানিতে আমন ধানের বীজতলা তলিয়ে গেছে। তাই আগাম প্রস্তুতির জন্য আপদকালীন বীজতলা বাড়ির উঠানে ও আশেপাশে তৈরি করেছি। এ কাজে উপজেলা কৃষি অফিস আমাদের সার্কিকভাবে সহায়তা করেছে।’

 

রাণীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শহীদুল ইসলাম জানান, বন্যায় আমন ধানের বীজতলার অনেক ক্ষতি হয়েছে। তবে কৃষকরা ব্রিআর-৩৪ ধানসহ নাবি জাতের আমন ধান রোপন করতে পারবেন। কারণ এই জাতের ধান একটু দেরিতে রোপন করলেও ফলনে তেমন কোন পার্থক্য দেখা যায় না। এজন্য আমরা আপদকালীন বীজতলা যা উচুঁ জায়গায়, বাড়ির উঠানে তৈরিরর পরামর্শ দিচ্ছি কৃষকদের।

 

নেক্সটনিউজ/জেআলম

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
Website Design and Developed By Engineer BD Network