২৩শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার

 

এক রাতেই কালভার্টের সামনে টিনের বাড়ি নির্মাণ’ পানির নিচে তলিয়ে গেছে ২০০ একর ফসলি জমি

আপডেট: জুলাই ২১, ২০২০

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

অমর চাঁদ গুপ্ত, দিনাজপুর থেকে : কালভার্টের মুখে মাটি ভরাট করে একরাতেই টিনের বাড়ি তৈরী করায় পানির নিচে তলিয়ে গেছে দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের ২০০ একর আবাদি জমি। একই সাথে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এলাকার প্রায় ৫০০ পরিবার। এ ঘটনায় ওই বাড়ীর মালিকের বিরুদ্ধে ২৬২ জন স্থানীয় বাসিন্দা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে।

কালভার্টের মুখে পানি যাওয়ার রাস্তায় বাড়ি নির্মাণের ফলে অল্প বৃষ্টিতেই আবাদি জমি প্লাবিত হওয়ায় ওই এলাকার প্রায় ১ হাজার কৃষক বছরে এক বার শুধু বোরো ধান চাষ করে। ফলে জমি থাকা সত্বেও অনেকে আমন ধান আবাদ করতে না পেরে কষ্টে জীবনযাপন করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, চিরিরবন্দর উপজেলার অমরপুর ইউনিয়নের জয়দেবপুর গ্রামের খামার পাড়ার বাসিন্দা আব্দুল হাকিমের ছেলে রবিউল আলম সরকার ও একই গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে আজাহার আলী ও তার ছোট ভাই সোহেল রানা বাবু বৃষ্টির পানি বের হওয়ার একমাত্র কালভার্টের মুখটি মাটি ভরাট করে সেখানে টিনের বাড়িসহ স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এতে ওই এলাকার বাসুদেবপুর, জয়দেবপুর, শ্যামনগর গ্রামের প্রায় ২০০ একর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন ৫০০ পরিবার। একই সাথে ওই এলাকার অর্ধশত পুকুর প্লাবিত হয়ে যাওয়ার কারণে মাছ ব্যবসায়ী ও চাষিরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এছাড়াও ওই এলাকায় চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ ১০ থেকে ১৫টি রাস্তার বেশিরভাগ সময় পানি ও কাঁদা জমে থাকছে।

উপজেলার বাসুদেবপুর গ্রামের বাসিন্দা মোবাশ্বের আলম বলেন, জুন মাসের শেষের দিকে তারা ওই টিনের বাড়িটি তৈরী করে এর ফলে আমার এক হাজার ২০০ বিঘা জমিতে বছরে একবারে বোরো ধান ফলাই। অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমাট থাকার কারণে আমন ধান লাগালেও তা বেশিরভাগ সময় ডুবে থাকে।

বানিয়াপাড়া, প্যারামানিক পাড়া, মৌলবিপাড়া, জয়দেবপুর হিন্দুপাড়ার আব্দুল কাদের,আবু তাহের, মকছেদ আলী, রমজান আলীসহ অনেকে বলেন, বাসুদেবপুর শ্যামনগর ও জয়দেবপুর হয়ে ২০০ একর জমির পানি ও ৫০০ বাড়ির পানি ওই কালভার্টের নিচ দিয়ে বের হয়ে যেত কিন্তু বর্তমানে কালভার্টটি বন্ধ করায় আমন ধান চাষ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে জমিগুলো অনাবাদি হয়ে পড়ে থাকছে।

টিনের বাড়ির মালিক আজাহার আলী বলেন, বাড়িটি তার ছোটভাই সোহেল রানা বাবু কিছুদিন আগেই তৈরী করেছে। তবে পানি নিষ্কাশনের রাস্তা এখানে অনেক আগে থেকেই বন্ধ আছে। বর্ষা পানি বেশী হলে আমাদের কি করার আছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আয়েশা সিদ্দীকা বলেন, অভিযোগের পেক্ষিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সমস্যাটি সমাধানের জন্য এলাকাবাসীর সাথে আলোচনা করবেন।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
Website Design and Developed By Engineer BD Network