১লা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার

 

করোনা যুদ্ধে দিনরাত মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন টাঙ্গাইলের পৌরমেয়র মিরন

আপডেট: এপ্রিল ১৮, ২০২০

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
নেক্সটনিউজ প্রতিবেদক,টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব জামিলুর রহমান মিরন। শহরের থানা পাড়ার বাসিন্দা মিরন তৃতীয়বারের মতো ঐতিহ্যবাহী এই পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত হলেও তাঁর এই অঞ্চলে রয়েছে বিপুল জনপ্রিয়তা। আওয়ামীলীগের দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সাথে ব্যক্তি ইমেজ,জনবান্ধব নীতি ও জনপ্রিয়তা যুক্ত হওয়ায় এই নেতার অবস্থান দিন দিন বেড়েই চলছে।
শক্তিমান সংগঠক মিরন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। দলের কর্মীদের জন্য নিবেদিতপ্রান এ নেতা তাঁর জীবনের পুরো সময় ব্যয় করে চলেছেন দলীয় নেতা-কর্মী ও পৌরবাসীর জন্যে। বর্তমান বৈশ্বিক মহামারির ক্রান্তিলগ্নে তিনি দিন-রাত মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন পৌরবাসীর সেবায়। ফজর নামাজের আযানের সাথে সাথে ঘুম ভাঙ্গে জননন্দিত এ নেতার। প্রত্যুষেই বের হয়ে পড়েন পৌরবাসীর খেদমতে। মধ্যরাত পর্যন্ত চলে তাঁর কর্মযজ্ঞ।
কিভাবে পৌরবাসীকে প্রানঘাতি করোনা থেকে মুক্ত রাখা যায় – এটাই এখন তাঁর ধ্যান-জ্ঞান। পৌরসভার ১৮ জন কাউন্সিলর ও মহিলা কাউন্সিলরদের সাথে নিয়ে তিনি দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন। জনসাধারনকে করোনা সংক্রমন রোধে সচেতন করার জন্য মতবিনিময় সভা,পথসভা করে চলেছেন। করোনা সংক্রমন থেকে পৌরবাসীকে বাঁচানোর জন্য তিনি শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড,নিরালার মোড়,বটতলা, আমিন বাজার,নতুন বাসস্ট্যান্ড,শান্তিগঞ্জের মোড়,বেবীস্ট্যান্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ৩০ টি স্পটে বেসিন বসিয়ে হাত ধোয়া ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের সুব্যবস্থা করেছেন।তাঁর নেতৃত্বে শহরে সকল রাস্তায় গাড়ি দিয়ে জীবাণুনাশক ছিটানোর ব্যবস্থা করেছেন। সর্বপ্রথম তিনিই এসব ব্যবস্থা করে পৌরবাসী তথা দেশবাসীর কাছে প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
করোনা সংক্রমন রোধে বাজার ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে এক নব দিগন্তের সূচনা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তিনি স্বশরীরে উপস্থিত থেকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। দুই পথ বিশিষ্ট এই বাজার ব্যবস্থাপনায় বাজারে লোকজন একপথ দিয়ে ঢুকবে আবার অন্যপথ দিয়ে বের হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে জনগনকে জীবাণুনাশক ছিটিয়ে দেওয়া হয়। রেপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ান এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এ ছাড়া তাঁর ব্যবস্থাপনায় পৌর এলাকার ঈদগাহ মাঠে নতুন বাজার বসিয়ে সংক্রমনরোধে ভূমিকা রেখেছেন। তাছাড়া বাজারের পন্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত স্বশরীরে বাজার মনিটরিং করছেন। টাঙ্গাইল জেলা প্রথম লকডাউন করা হয়। ফলে দীর্ঘদিন লকডাউনে থাকায় কর্মহীন দরিদ্র মানুষদের মাঝে ত্রান সামগ্রী বিতরন অব্যাহত রেখেছেন। তিনি সরকারীভাবে ৬ হাজার পরিবার এবং ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৪ হাজার পরিবারকে এ পর্যন্ত ত্রান সহযোগিতা প্রদান করেছেন।তিনি তিনটি হটলাইন নম্বর দিয়ে ঘোষনা করেছেন যে, ফোন দিলেই তার নিকট খাবার পৌঁছে দেয়া হবে।তাঁর পৌরসভার কেউ না খেয়ে থাকবেনা বলে তিনি ঘোষনা করেছেন।
তিনি দিনরাত পৌরবাসীর দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন এবং কর্মহীন, দরিদ্রদের সাহায্য-সহযোগিতা করে চলেছেন। তাঁর এ কর্মযজ্ঞ দেখার জন্য সরেজমিনে গেলে তাঁকে হ্যান্ড মাইক দিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচার-প্রচারণা করতে দেখা যায় বেবীস্ট্যান্ডে।পৌরশহর ঘুরে দেখার পর রাত নয়টায় পৌঁছে দেখা যায় তিনি তাঁর পৌরসভার অফিসে কাউন্সিলর ও স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে করোনা সংক্রমন রোধ ও ত্রান বিতরণ নিয়ে কথা বলতেছেন। কোন মহল্লার কে কে বেশী দরিদ্র এবং কাকে কাকে ত্রানের আওতায় আনা যায় এসব নিয়ে আলোচনা করছেন।
রাত যখন দশটা, তখনও তিনি পৌরসভার তাঁর কার্যালয়ের চেয়ারে বসেই পৌরবাসীদের সুখ-দুঃখ নিয়ে কাজ করছেন।এরই ফাঁকে সাংবাদিক পরিচয়ে পৌর এলাকায় করোনা পরিস্থিতি এবং ত্রান বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ” আমি আমার স্ত্রীকে বলেছি যে, আমার দেখার,জানার আর কিছু নাই। দেশ মোনাফেকীতে ভরে গেছে।আমার আর বেঁচে থাকার ইচ্ছে নাই।তাই মরতে যখন হবেই তখন আমার পৌরসভার সাধারণ মানুষের পাশে থেকেই মরতে চাই।” জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি সকালে বের হন।মধ্যরাত পর্যন্ত চলে একই ভাবেতিনি সাংবাদিকদের বলেন, ” ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত পৌরবাসীর জন্য কাজ করে যাচ্ছি।এখন পর্যন্ত পৌরশহরে করোনা আক্রান্ত কাউকে পাওয়া যায়নি।আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করছি, তিনি যেনো আমার পৌরবাসীর উপর রহমত বর্ষন করেন। “
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
Website Design and Developed By Engineer BD Network