২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার

 

কালিহাতীতে কামাল হত্যা মামলা ।। সিভিল সার্জন ও পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

নেক্সটনিউজ প্রতিবেদক, টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে  শওকত আলী খান কামাল (৭০) হত্যা মামলার অগ্রগতি নেই। আলোচিত এই হত্যা মামলা নিয়ে কালিহাতীতে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে। দীর্ঘ দিনেও মেলেনি পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট । উল্লেখযোগ্য লিশী তৎপরতা নেই।কালিহাতী থানা পুলিশ ও টাঙ্গাইল জেলা সিভিল সার্জন অফিসের ভূমিকা নিয়ে  উঠেছে প্রশ্ন।

গত বছরের ৪ নভেম্বর  কামালকে খুন করা হয়।
দীর্ঘদিনেও  হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটিত হয়নি। ভিকটিমের পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন পিতৃহত্যা মামলার বাদী কালিহাতী উপজেলার পাছ চারান উত্তর পাড়া গ্রামের  নাহিদ খান ।
জানাযায়,গতবছরের ৪ নভেম্বর মঙ্গলবার রাতে নিজ বাড়ীতে রহস্যজনকভাবে খুন হন কামাল খান।পরেরদিন ৫ নবেম্বর দুপুরে  চারান উত্তর পাড়া গ্রামের বাড়ীর পাশের বাঁশঝাড়ের জঙ্গল থেকে শওকত আলী খান কামালের আঘাতের চিহ্নসহ রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে কালিহাতী থানা পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান,শওকত আলী খান কামাল পরিবারসহ রাজধানী ঢাকাতে বসবাস করতেন।  সপ্তাহ খানেক আগে অক্টোবরের শেষে দিকে নিহত শওকত আলী খান কামাল কালিহাতী উপজেলার পাছ চারান উত্তর পাড়া গ্রামের নিজ  বাড়িতে আসেন গৃহস্থালী ও আবাদী জায়গা জমি দেখাশোনা করার জন্য । ৪ নভেম্বর মঙ্গলবার রাতে তিনি তার নিজ বসত ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন বসতবাড়ির পাশে একটি বাঁশঝাড়ের জঙ্গলে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা।
৫ নভেম্বর বুধবার দুপুরে কালিহাতী থানা পুলিশ নিহত শওকত আলী খান কামাল (৭০) এর শরীরে আঘাতের চিহ্নসহ রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে টাঙ্গাইল সদর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন। একইদিন টাঙ্গাইল সদর জেনারেল হাসপাতাল থেকে পোস্ট মর্টেম এর আনুষ্ঠানিকতা শেষে নিহতের পরিবারের সদস্যরা শওকত আলী খান কামালের মরদেহ গ্রহণ করে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে তার দাফন সম্পন্ন করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালিহাতী থানার এস আই সুকান্ত রায়  মৃত্যুর সম্ভাব্য কারন হিসাবে উল্লেখ করেন “প্রাথমিক তদন্ত ও পারিপার্শ্বিকতায় অন্ডকোষে চাপ ও গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা ।” উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে শওকত আলী খান কামাল হত্যা রহস্য উদঘাটনে ৫ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে  ময়না তদন্তের জন্য প্রেরণ করেন।
গত ৫ নভেম্বর নিহত বৃদ্ধের পুত্র মোঃ নাহিদ খান (২৯)  বাদী হয়ে কালিহাতী থানায় একটি এজাহার দাখিল করেন। এজাহার মূলে কালিহাতী থানায় একটি হত্যা মামলা রুজ্জু করা হয় । কালিহাতী থানার মামলা নম্বর ৬, তারিখ ০৫/১১/২০২৫ ইং, ধারাঃ ৩০২/৩৪ ।
হত্যা মামলার বাদী মোঃ নাহিদ খান ক্ষুব্ধ  প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, আমার বাবা মো. শোওকত আলী খান কামালকে গত ০৪/১১/২০২৫ ইং তারিখ আনুমানিক রাত ৯.৩০ ঘটিকার পরে নিজ বসত  ভিটায় খুন করা হয়। মৃতদেহ ঘরের পিছনে বাশঝাড়ের জঙ্গলে পড়ে ছিলো। পরের দিন ৫/১১/২০২৫ তারিখ আনুমানিক সকাল ৯.৫০ মিনিটে আমার চাচা  লুৎফর রহমান খান আরিফ ফোন করে আমাদের জানায়  আমার বাবাকে কে বা কারা  হত্যা করে বাড়ীর পাশে বাঁশঝাড়ের জঙ্গলে  ফেলে রেখেছে।
তারপর ঐদিন রাতেই আমি বাদী হয়ে কালিহাতী থানায় একটি এজাহার দায়ের করি।
কিছুদিন পর লোক মারফত  জানতে পারি  মো সাজ্জাত হোসেন রুমেল ওরফে রুমেল: হোসেন(২৭)পিতা- মৃত দুলাল মিয়া সাং- ঝগড়মান উত্তর পাড়া, থানা কালিহাতী, জেলা- টাংগাইল নামে একব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামীকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ড দেয়া হয়েছে ।
অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় এব্যাপারে কালিহাতী থানা থেকে কোন কিছুই আমাকে জানানো হয় নাই । আমরা বার বার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা  এস আই সুকান্ত রায়ের সাথে যোগাযোগের চেস্টা করলেও তিনি আমাকে কোন রকম গুরুত্ব দিচ্ছেন না, যা শুধু অনাকাঙ্ক্ষিতই নয়,বেদনাদায়কও বটে।
আমার পিতা হত্যার মামলাটি ৩ মাসের অধিক  সময়  পার হয়ে গেলেও টাংগাইল জেনারেল হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন অফিস থেকে অদ্যাবধি  পোস্টমর্টেম  রিপোর্ট দেওয়া হয়নি,যা রহস্যজনক ।
তিনি আরো বলেন, আমরা বিভিন্নভাবে জানতে পেরেছি আমার বাবা হত্যার সাথে জড়িত একাধিক ব্যক্তি  কালিহাতী থানা পুলিশ ও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে হত্যা মামলাটির রহস্য ভিন্নখাতে প্রবাহের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।
স্থানীয় একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, নিহত শওকত আলী খান কামালের সাথে তাদের শরিক লুৎফর রহমান খান আরিফদের সাথে বাড়ীর পাশের রাস্তাুর পরিমাপ নিয়ে সমস্যা ছিল এবং  বাউন্ডারী দেওয়াল নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধ তীব্র হয়।
আরেকটি অসমর্থিত সূত্র জানিয়েছে,লুৎফর রহমান খান আরিফের মেয়ের জামাই  মো সাজ্জাত হোসেন রুমেল ওরফে রুমেল হোসেন (২৭) ওই হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকার ধারনা করছেন এলাকার  অনেকেই।লুৎফর রহমান খান  আরিফদের সাথে নিহত শওকত আলী খান কামালের সাথে  একাধিকবার সম্পত্তি নিয়ে প্রকাশ্য ঝগড়াঝাটি হওয়ার কথাও এলাকায় চাউর আছে।এমনকি নিহত শওকত আলী খান কামালকে কোন একসময় আরিফ তলপেটে লাথি দিয়ে গুরুতর আহতও করেছিলেন বলে জানা গেছে।
এবিষয়ে,মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই সুকান্ত রায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে মামলাটির তদন্তের কাজ করছে,ইতোমধ্যেই সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।পোস্ট মর্টেম রিপোর্টের জন্য সংশ্লিষ্ট  কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।রিপোর্ট পেলেই আশা করছি দ্রুতই  মামলার রহস্য উদঘাটন  সম্ভব হবে।”
টাঙ্গাইল জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার ফরাজী মোঃ মাহবুবুল আলম মন্জু জানান, “পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট তিনভাবে করা হয়,একটি করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,একটি করে জেলা সদর হাসপাতাল এবং একটি করে ফরেনসিক বিভাগ ঢাকায়। এটি কোথায় আছে এই মুহুু্র্তে আমার জানা নাই।এই রিপোর্টটি কোথায় আছে আমাকে জানালে আমি সহযোগিতা করবো। তাছাড়া আমার এখানে কোন রিপোর্ট এলে সাথে সাথেই সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠিয়ে দিয়ে থাকি।”
তবে এই মামলাটি নিয়ে পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
Website Design and Developed By Engineer BD Network